https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিই দেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার প্রধান ভিত্তি হবে। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
বুধবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ নীতির কথা তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, যোগাযোগসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান সমন্বিত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব আরও জোরদারে একমত হয়। পাশাপাশি মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের প্রত্যাবাসন, বহুমুখী পরিবহন করিডোর, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান। এ সময় দুই দেশ বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনা করে বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারে সম্মত হয়।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ড. খলিলুর রহমান মার্কো রুবিওকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। রুবিওও ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এসব উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতির আলোকে জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে প্রধান বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
বর্তমানে ড. খলিলুর রহমান আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) ৩৩তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির ৫০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।