https://timenewsbangla.com

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ শুক্রবার বিকেল অথবা আগামীকাল শনিবার পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা চলছে। বঙ্গভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিদায়ের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। একই সময়ে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই দেশে ফিরছেন, যা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সও তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার দাবি, মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকার-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য, সম্প্রতি বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকেও এ বিষয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য কিছু সময় চাওয়া হয়।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। আর ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ছাড়াও সরকারের দায়িত্বে থাকা একজন জ্যেষ্ঠ সচিব এবং একজন সাবেক সচিবের নাম রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক বা স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তাঁর রয়েছে, তবে এ বিষয়ে সরকার কিছু জানে না।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শুধু পদত্যাগ নয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারও করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি যোগ্য, নিরপেক্ষ ও অভিভাবকসুলভ একজন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আহ্বান জানান।