https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ খাতকে বিকশিত করতে সরকার ইতোমধ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি সম্মেলন নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের কারিগরদের মিলনমেলা। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, সরকার একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা প্রযুক্তি, মোবাইল ফোন থেকে মহাকাশের স্যাটেলাইট—সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ এখন অপরিহার্য।
বিশ্ববাজারে এ খাতের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালেই বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। এই বাজারে বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতের উন্নয়ন শুধু সরকারের নয়; বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বছরে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ অনুদান’ চালুর কথাও জানান তিনি। এছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বন্ডেড সুবিধা, বিশেষায়িত অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যমান হাই-টেক পার্কের আধুনিকায়ন এবং নতুন বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকলেও দেশের মেধাবী তরুণদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এ খাতে সফলতা অর্জন করবে। সরকার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সামিট-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন।
‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সামিটে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ডিপ-টেক উদ্ভাবন নিয়ে ৩৫টি স্টলে বিভিন্ন প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়।