https://timenewsbangla.com

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
ছাত্ররাজনীতি দিয়ে পথচলা শুরু করে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, স্থানীয় সরকার, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব—দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা ধাপ পেরিয়ে এবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার তাঁকে বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে পাঁচ বছর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন তিনি।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময় ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।
পড়াশোনা শেষে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি পড়ানোর পাশাপাশি পরে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন।
১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
পরবর্তীতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে ২০১৬ সালে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। বিএনপির কঠিন রাজনৈতিক সময়ে তিনি দলটির নেতৃত্ব ও আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং একাধিকবার কারাবরণ করেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হলেও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
বিএনপির নেতাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও সংকটের সময়ে দলের পাশে থাকার স্বীকৃতি হিসেবেই মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মনোনয়ন তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।