https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ফেনীর মহিপালে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আত্মগোপনে থাকা ১৭৮ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী।
শনিবার প্রকাশিত এক জাতীয় দৈনিকে ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ছালামাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। আদালতের মতে, তারা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং শিগগির তাদের গ্রেপ্তারের সম্ভাবনাও নেই।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ ও ৮৮ ধারার প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং ৩৩৯-বি(১) ধারার ক্ষমতাবলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় মামলার বিচার তাদের অনুপস্থিতিতেই চলবে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নিহত শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুমের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পুলিশ ২২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে মামলার কার্যক্রমে আসামির সংখ্যা ১৭৮ জনে পৌঁছায়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলি চালানোর জন্য উসকানি, নির্দেশনা ও প্ররোচনার সঙ্গে অভিযুক্তরা জড়িত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৫১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তবে চার্জশিটভুক্ত কয়েকজনের জামিন পাওয়ার ঘটনায় শহীদ পরিবার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফেনীর মহিপালে সংঘর্ষের সময় ছাগলনাইয়ার আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুম গুলিবিদ্ধ হন। মাথা, বুক ও পিঠে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট তিনি মারা যান। ওই দিনের সহিংসতায় ফেনীতে মোট নয়জন নিহত হয়েছিলেন।