https://timenewsbangla.com

কোনো সংসদ সদস্যকে রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার করলেই তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দল থেকে বহিষ্কারকে এমপি পদ বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
সংবিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সদস্যপদ শূন্য হতে পারে। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কার হওয়া এর মধ্যে পড়ে না।
আইনজ্ঞদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করে সংসদের স্পিকারের কাছে তার সদস্যপদ বাতিলের আবেদন করলে বিষয়টি সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচিত হতে পারে।
এর আগে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল ছিলেন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে দলীয় বহিষ্কারের পর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় এমপি পদ বাতিলের ঘটনা ঘটে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে এমন প্রশ্ন সামনে এসেছে। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না—এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইনজ্ঞদের মতে, তার ক্ষেত্রে কয়েকটি সম্ভাবনা রয়েছে—দল থেকে বহিষ্কার হলেও তিনি এমপি পদে বহাল থাকতে পারেন, অথবা বিষয়টি স্পিকারের সিদ্ধান্ত কিংবা আদালতের ব্যাখ্যার মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে।
সুতরাং, শুধু দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় কোনো সংসদ সদস্যের পদ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হয় না; সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে।