https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন নতুন একটি পরিকল্পনা চালু করেছে, যার ফলে দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদন করা লাখ লাখ মানুষ দ্রুত বিতাড়ন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন। নতুন নিয়মের আওতায় অনেক আবেদনকারী আশ্রয় কর্মকর্তার কাছে নিজেদের দাবি তুলে ধরার সুযোগ না-ও পেতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এ ঝুলে থাকা প্রায় ১৪ লাখ আশ্রয় আবেদনের জট কমাতে তাৎক্ষণিকভাবে এ নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। এর আওতায় প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৭২৫টি আবেদন অভিবাসন আদালতে পাঠানো হবে। সেখানে অভিবাসন বিচারকেরা অতিরিক্ত শুনানি ছাড়াই আবেদন খারিজ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিতে পারবেন।
ইউএসসিআইএসের পরিচালক জোসেফ বি. এডলো দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই প্রকৃত সুরক্ষার প্রয়োজনের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময় বাড়ানো ও কাজের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ হিসেবে আশ্রয় ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, মানবপাচারকারীরা দুর্বল ও ভিত্তিহীন আবেদন দিয়ে আশ্রয় ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলছে। এসব আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
তবে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, আশ্রয়প্রার্থীদের বক্তব্য শোনার সুযোগ সীমিত হলে প্রকৃত নির্যাতনের শিকার মানুষও সুরক্ষা পাওয়ার আগেই বিতাড়নের মুখে পড়তে পারেন। একই সময়ে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদা বাতিলের বিষয়টিও অভিবাসীদের অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
অভিবাসন আইনজীবী আইরা কুর্জবান অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন বৈধভাবে অবস্থানরত মানুষদের অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তার মতে, এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আশ্রয় সুরক্ষার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং পুরো আশ্রয় ব্যবস্থাকে বিতাড়নের একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত করতে পারে।
অভিবাসী অধিকারকর্মীরা বলছেন, জীবন বাঁচাতে নিজ দেশ ছেড়ে আসা অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের জটিল অভিবাসন আইন ও আশ্রয় আবেদনের সময়সীমা সম্পর্কে অবগত নন। ফলে নতুন নিয়মে তারা যথাযথ আইনি সহায়তা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
নতুন নিয়মটি ইতোমধ্যে কার্যকর হলেও ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, পরবর্তীতে জনমত গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত নিয়ম জারি করা হবে।