https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কুমামোতো অঞ্চলে ধসে পড়া একটি শপিংমলে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে দিনরাত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে, ফলে এর কম্পন ব্যাপকভাবে অনুভূত হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ভূমিকম্পের আঘাতে হাজার হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। সড়ক ও অবকাঠামোর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৮৭২ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কুমামোতো প্রিফেকচারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর অন্তত ৩৬ হাজার ৭০০ পরিবার এখনও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করছে।
এদিকে জাপান আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল অগভীর হওয়ায় আগামী কয়েকদিন আরও শক্তিশালী আফটারশক বা অনুকম্পন আঘাত হানতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটিতে প্রতিবছর গড়ে প্রায় দেড় হাজার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তাই বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলায় জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত হলেও শক্তিশালী কম্পনে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থেকেই যায়।