ঢাকার এভিয়েশন হাবের উন্নয়ন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জার্মানির লুফথানসার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লটজের নেতৃত্বে লুফথানসার একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় দুই দেশের বিমান চলাচল, বিমান বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বড় সুযোগ রয়েছে। বিশ্বখ্যাত এভিয়েশন প্রতিষ্ঠান লুফথানসা বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।
তিনি বাংলাদেশে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কারের জন্য আধুনিক কেন্দ্র স্থাপনে লুফথানসার বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দেশে দক্ষ বিমান চলাচল খাতের মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কার্গো ও ডাক’ মর্যাদা প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। ২০১৭ সাল থেকে এ মর্যাদা বহাল রয়েছে। মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা নিরীক্ষায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে।
এ অবস্থায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কার্গো ও ডাকের মর্যাদা প্রত্যাহারে জার্মানির সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ১০টি এয়ারবাস কেনার বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতির কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ সরবরাহের সময় এগিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ২০৩০ সালের আগেই সরবরাহ শুরু করার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বৈঠকে দুই দেশের বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি, পর্যটন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জার্মানির পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ হবে।

মন্তব্য করুন