https://timenewsbangla.com

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টিই আবার সচল করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের আগের অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৭০ শতাংশ এখনও অক্ষত রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সম্প্রতি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে জানান, ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনাগুলোর বড় অংশ পুনরায় কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছে। এসব স্থাপনায় বিপুল পরিমাণ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রের আশঙ্কা, বর্তমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে টমাহক ও প্যাট্রিয়টের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুদ নিয়ে মার্কিন বাহিনী বড় চাপে পড়তে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে হাজার হাজার হামলা চালানো হলেও ইরানের বড় অংশের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো টিকে আছে। এমনকি তেহরানের হাতে এখনও কয়েক হাজার আত্মঘাতী ড্রোন রয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের নৌ ও বিমান সক্ষমতা প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য সেই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিল পাচ্ছে না।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।
ইরানও দাবি করছে, তাদের অস্ত্রভাণ্ডার এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত তারা পুরোনো মজুদের একটি অংশ ব্যবহার করেছে মাত্র।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।