https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করলেও ম্যাচের সামগ্রিক চিত্রে স্পষ্ট ছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিদের কৌশলগত আধিপত্য। মাঠের ফুটবল, প্রেসিং এবং আক্রমণ সংগঠনে ব্রাজিলের চেয়ে বেশি পরিণত ফুটবল খেলেছে মরক্কো।
চোটের কারণে দলে থাকলেও মাঠে নামতে পারেননি নেইমার জুনিয়র। তার অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের মাঝমাঠে সৃজনশীলতার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ক্যাসেমিরো ও লুকাস পাকেতা বল নিয়ন্ত্রণ ও পাসিংয়ে ভূমিকা রাখলেও আক্রমণভাগে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার মতো কোনো প্রকৃত প্লেমেকার ছিল না। ফলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়াকে বারবার নিচে নেমে বল সংগ্রহ করতে হয়েছে, যা তাদের আক্রমণাত্মক ধারকে সীমিত করেছে।
অন্যদিকে শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক না হয়ে আক্রমণাত্মক হাই-প্রেসিং কৌশল বেছে নেয় মরক্কো। ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটেই তারা ব্রাজিলের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের পরিকল্পনার আভাস দেয়। মাঝমাঠে ব্রাহিম দিয়াজের নেতৃত্ব এবং ডান প্রান্তে আশরাফ হাকিমির গতিময়তা ব্রাজিলকে বারবার সমস্যায় ফেলে।
ম্যাচের ২১তম মিনিটে মরক্কোর এগিয়ে যাওয়ার গোলটি ছিল তাদের সুসংগঠিত ফুটবলের প্রতিচ্ছবি। ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাস থেকে ইসমাইল সাইবারি জালে বল পাঠিয়ে দলকে লিড এনে দেন।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগে নতুন ভরসা হিসেবে নামা ইগর থিয়াগো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। প্রথমার্ধে পাওয়া সহজ সুযোগ হাতছাড়া করার পাশাপাশি তার অবস্থান নির্বাচন ও টাইমিং নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবও ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে দলের মান রক্ষা করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ৩২তম মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে শক্তিশালী শটে গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান তিনি। ব্যক্তিগত দক্ষতায় করা সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে হার থেকে রক্ষা করে।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল কিছুটা সংগঠিত ফুটবল খেললেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে পারেনি। মরক্কোও সুযোগ তৈরি করেছে এবং শেষ মুহূর্তে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের গুরুত্বপূর্ণ সেভ ব্রাজিলকে অন্তত এক পয়েন্ট এনে দেয়।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখন ব্রাজিলের মাঝমাঠকে ঘিরে। নেইমারের অনুপস্থিতিতে সৃজনশীলতার সংকট এবং আক্রমণভাগে কার্যকর সংযোগের অভাব দূর করতে না পারলে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে মরক্কো প্রমাণ করেছে, তারা শুধু অংশ নিতে নয়, বড় দলগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতেও প্রস্তুত।