https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
জন্ম হয়েছিল একটি শরণার্থী শিবিরে। পরিবারকে বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে। সেই শিশুই আজ বিশ্বকাপের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন। নেস্টোরি ইরানকুন্ডার অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প যেন বাস্তবের রূপকথা।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ের নায়ক ছিলেন ২০ বছর বয়সী ইরানকুন্ডা। ম্যাচের ২৭তম মিনিটে দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে গোল করে তিনি শুধু দলকে এগিয়েই দেননি, বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ডও গড়েছেন।
২০০৬ সালে তানজানিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া ইরানকুন্ডার পরিবার মূলত বুরুন্ডির বাসিন্দা। গৃহযুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তার বাবা-মা। পরে পরিবারটি অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেয়, আর সেখানেই ফুটবলের সঙ্গে তার নতুন জীবনের শুরু।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের যুব একাডেমিতে বেড়ে ওঠা ইরানকুন্ডা অল্প বয়সেই নিজের অসাধারণ গতি, শক্তি ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে নজর কাড়েন। ক্লাবটির হয়ে ১৬ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হন তিনি।
তার প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন এই উইঙ্গার। যদিও মূল দলে নিয়মিত সুযোগ পাননি, তবে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলনের অভিজ্ঞতা তার ফুটবল ক্যারিয়ারকে নতুন মাত্রা দেয়।
বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণে পরে কঠিন এক সিদ্ধান্ত নেন ইরানকুন্ডা। নিয়মিত খেলার সুযোগের জন্য বায়ার্ন ছেড়ে যোগ দেন ইংল্যান্ডের ওয়াটফোর্ডে। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
দলবদলের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বিশ্বকাপে খেলা ছিল আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। সেই লক্ষ্য পূরণে নিয়মিত মাঠে নামা প্রয়োজন ছিল, তাই কঠিন হলেও সিদ্ধান্তটা নিতে হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর থেকেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে আসছিলেন তিনি। আর এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে সেই সম্ভাবনাকে রূপ দিলেন ইতিহাসে।
তুরস্কের বিপক্ষে গোলটি ছিল চোখ জুড়ানো। নিজেদের অর্ধ থেকে আসা লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন ইরানকুন্ডা। সেই গোলেই ২০ বছর ১২৫ দিন বয়সে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েন তিনি।