https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস-টিপিএস) নিয়ে অবস্থানরত অভিবাসীদের হয় বৈধ উপায়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, নয়তো নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক বিভক্ত রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে লাখ লাখ হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকের টিপিএস সুবিধা বাতিলের অনুমতি দেওয়ার পর এ মন্তব্য করেন তিনি।
মুলিন বলেন, টিপিএসধারীদের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার চেষ্টা করতে হবে। অন্যথায় সরকার তাদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করবে।
তিনি জানান, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহীদের জন্য সরকার বিমান ভাড়ার পাশাপাশি নতুন জীবন শুরু করার সহায়তা হিসেবে প্রায় ২ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার প্রদান করবে। তিনি বলেন, টিপিএসের নামেই স্পষ্ট যে এটি একটি অস্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা, স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য বড় ধরনের সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকদের সাময়িকভাবে দেশটিতে বৈধভাবে বসবাস ও কাজের অনুমতি দেওয়া যায়। অতীতে এ সুবিধার মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হলেও এবার তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বর্তমানে হাইতি ও সিরিয়ায় সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ এবং গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের ওই দেশগুলোতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে আসছে।
২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতির নাগরিকদের এবং ২০১২ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য প্রথম টিপিএস সুবিধা চালু করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওহাইওতে বসবাসরত হাইতিয়ান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীদের পোষা প্রাণী খাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন, যা পরে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত জাতিগত বৈষম্যমূলক ছিল—এমন দাবি আদালতে প্রমাণ হওয়ার সম্ভাবনা কম।