https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭১৯ জনে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা বন্দরের বাসিন্দারা শাবল, কোদাল ও হাতুড়ি দিয়ে নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খুঁজছেন। পর্যাপ্ত উদ্ধার সহায়তা না পৌঁছানোয় অনেক এলাকায় স্থানীয়দের ওপরই নির্ভর করছে উদ্ধার অভিযান।
দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ দুর্যোগকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এএফপি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১,৭১৯ জনে পৌঁছেছে।
তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যা উদ্ধারকর্মীদের কিছুটা আশাবাদী করেছে।
গত বুধবার মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। এরপর সোমবার আরও ৪.৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে, যদিও এতে নতুন কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও উদ্ধারকাজে তাদের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেক এলাকায় কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবীদের দেওয়া খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই দুর্গত মানুষের প্রধান ভরসা।
সরকারের দাবি, ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নিরাপত্তা মূল্যায়নে রঙভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ৫০০টিরও বেশি পরাঘাত হয়েছে এবং অন্তত ২ হাজার ৫০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অধিকাংশই সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। সংস্থাটি সম্ভাব্য আরও প্রাণহানির আশঙ্কায় ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে।