https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে বর্তমানে ৪৯টিতে রেল সংযোগ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
শুক্রবার রাতে নেত্রকোণা রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এর আগে তিনি মোহনগঞ্জ ও বারহাট্টা রেলস্টেশনও পরিদর্শন করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সারা দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। রেলপথে যানজট কমাতে বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ, ট্রেনে ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ড লাইনের মাধ্যমে যাত্রাপথের দূরত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নেত্রকোণাকেন্দ্রিক বিভিন্ন দাবির বিষয়েও সরকার কাজ শুরু করেছে। তবে আর্থিক ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে সব প্রকল্প একসঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। অতীতে রেললাইন নির্মাণ হলেও সেই অনুপাতে লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহ করা হয়নি। ফলে বিশেষ করে মিটারগেজ রুটে ইঞ্জিন ও কোচের সংকট দেখা দিয়েছে।
হাবিবুর রশিদ বলেন, নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহের পাশাপাশি অকেজো ইঞ্জিন মেরামতের মাধ্যমে বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে এসব সংগ্রহে সাধারণত দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে।
তিনি আরও জানান, নেত্রকোণা রেলস্টেশনের ওয়েটিং রুম আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্টেশনের টয়লেট নির্মাণের টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতে রেল সংযোগ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি জেলাগুলোকেও রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলসেবাও আরও সম্প্রসারিত হবে।
নেত্রকোণায় সম্ভাব্য নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সংশ্লিষ্ট এলাকার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। প্রকল্পটি জনস্বার্থ ও যাত্রীসেবার জন্য কার্যকর প্রমাণিত হলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করেই সরকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায়। তাই যেকোনো নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে, দিনব্যাপী নেত্রকোণা সফরে প্রতিমন্ত্রী মদন উপজেলার উচিতপুর ট্রলারঘাটে পথসভা এবং মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এছাড়া খালিয়াজুড়ি উপজেলার রোয়াইল-নাওটানা সংযোগস্থল, বাজোয়াইল কীর্তনখোলা ফিশারি এবং মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর চিরাডুবি হাওরেও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
সফরে তার সঙ্গে ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোণা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।