মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-সম্পর্কিত সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অনলাইন কার্যক্রমের ওপর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ আরও কঠোর হয়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার ও সংবাদ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট, ভিডিও বা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে একাধিক দেশে গ্রেপ্তার, দেশত্যাগে বাধ্য করা এবং মামলার ঘটনা বেড়েছে।
কয়েকটি দেশে সরকার নতুন করে নির্দেশনা দিয়েছে, যেখানে যুদ্ধ বা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইনে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে বিচারিক আপিলের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং পুরোনো আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
বাহরাইনে কর্তৃপক্ষ ৬৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে বলে জানা যায়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান-সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা বা বিদেশি পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগকে এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে কুয়েতসহ কয়েকটি দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টের কারণে সাংবাদিক, অনলাইন প্রভাবশালী ব্যক্তি, মানবাধিকারকর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ বা আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।
সরকারি পক্ষগুলোর দাবি, এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে ভুয়া তথ্য ছড়ানো, সাম্প্রদায়িক উসকানি, যোগাযোগ প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগের ভিত্তিতে।
তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং অনলাইনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে।