ঢাকা
৩০ জুলাই ২০২৬

তুরস্কে মিলল দুই হাজার বছরের পুরোনো রোমান হলঘর

ডেস্ক রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬   ২ বার পঠিত
তুরস্কে মিলল দুই হাজার বছরের পুরোনো রোমান হলঘর

ছবি: -সংগৃহীত

তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলের প্রাচীন নগরী ট্রালেইসে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রায় দুই হাজার বছর আগের একটি রোমান যুগের হলঘরের সন্ধান মিলেছে। হলঘরটির মেঝেতে পাওয়া গেছে অত্যন্ত সুসংরক্ষিত একটি মোজাইক শিল্পকর্ম, যেখানে সমুদ্রের দেবতা পোসেইডনের সঙ্গে সম্পর্কিত পৌরাণিক সামুদ্রিক প্রাণী হিপোক্যাম্পাসের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

তুরস্কের আইদিন প্রদেশের এফেলার জেলার শহরকেন্দ্র থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ট্রালেইসের প্রাচীন স্নানাগার ও ব্যায়ামাগার কমপ্লেক্সে চলমান প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হয়। তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ‘ভবিষ্যতের জন্য ঐতিহ্য’ প্রকল্পের আওতায় খননকাজ পরিচালনা করছেন আইদিন আদনান মেন্দেরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুরাত চেকিলমেজ।

অধ্যাপক চেকিলমেজ জানান, এর আগে একই এলাকায় রোমান যুগের অলিম্পিক ধাঁচের একটি সুইমিং পুলের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর খনন সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাথ-জিমনেসিয়াম কমপ্লেক্সে তৎকালীন মানুষের জীবনযাপন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত আরও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন পাওয়া যাচ্ছে। রোমান যুগের পাশাপাশি বাইজেন্টাইন আমলের বিভিন্ন স্থাপনাও উদ্ধার হয়েছে।

তার মতে, ট্রালেইস শুধু একটি প্রাচীন নগরীই ছিল না, এটি ছিল শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র। এখানে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হতো এবং শারীরিক শিক্ষারও বিশেষ গুরুত্ব ছিল। চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও বহু পণ্ডিত এই শিক্ষাকেন্দ্র থেকে গড়ে উঠেছিলেন। প্রাচীন বিশ্বে লেখক ও বিজ্ঞানী তৈরির জন্যও ট্রালেইসের বিশেষ সুনাম ছিল।

চলতি বছরের খননকাজে কমপ্লেক্সটির উত্তরাংশে মোজাইক-বিছানো হলঘরটি আবিষ্কৃত হয়। প্রথমদিকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করেছিলেন, সেখানে কেবল বাইজেন্টাইন যুগের একটি কর্মশালার ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। তবে খননকাজ এগিয়ে নেওয়ার পর কর্মশালার নিচে উন্মোচিত হয় প্রায় অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষিত রোমান যুগের মোজাইক মেঝে।

অধ্যাপক চেকিলমেজ বলেন, এই আবিষ্কার গবেষকদের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। এত ভালোভাবে সংরক্ষিত মোজাইক শুধু রোমান শিল্পকলার উৎকর্ষই তুলে ধরে না, বরং সে সময়কার মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সংস্কৃতি ও পৌরাণিক বিশ্বাস সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।

তিনি আরও জানান, প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো এই মোজাইকের বড় একটি অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে। সংরক্ষণকাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে প্রত্নস্থলটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।