ঢাকা
৩০ জুলাই ২০২৬

ট্রাইব্যুনালে হাজির লতিফ সিদ্দিকী

ডেস্ক রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬   ৩ বার পঠিত
ট্রাইব্যুনালে হাজির লতিফ সিদ্দিকী

ছবি: -সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত কথিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পর তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

এর আগে ২৭ জুলাই এ মামলায় প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ১০ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলায় বর্তমানে আটজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

এ ছাড়া অন্য একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন হাসানুল হক ইনু। আবদুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তার আছেন। মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।

মামলায় সুনির্দিষ্ট দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাশেদুল ইসলাম ও আবু ইউসুফসহ বহু মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, এসব ঘটনা গণহত্যা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিপীড়নসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি এবং আদালতের শুনানি ও পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।