দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে সম্পত্তি ইজারা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেবিচকের মধ্যে ইজারা নীতিমালা নিয়ে চলমান মতবিরোধ শিথিল হওয়ায় কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যবসায়িক স্থান ইজারা নেওয়ার জন্য কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়েছে।
বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ইজারা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ায় নতুন করে ইজারা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের সম্পত্তি ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। এরপর থেকেই নতুন নীতিমালা প্রণয়নকে কেন্দ্র করে মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় একটি খসড়া নীতিমালা পাঠিয়ে বেবিচকের মতামত চায়। জবাবে কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি তুলে ধরে বেবিচক। সংস্থাটির মতে, খসড়ার কিছু বিধান আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অডিটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বেবিচক আরও উল্লেখ করে, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অ্যাক্ট-২০১৭ অনুযায়ী বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটির সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত। কিন্তু নতুন খসড়ার কিছু বিধান সেই এখতিয়ারে হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এছাড়া ২০১০-১১ সালের আগে উন্মুক্ত দরপত্রভিত্তিক ইজারা ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ ছিল বলে জানায় সংস্থাটি। পরবর্তীতে যাত্রীসেবা সহজ করতে নীতিমালায় সংস্কার আনা হলেও নতুন খসড়ার কিছু ধারা পুরোনো জটিলতা ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা তৈরি করেছে বলে তাদের অভিমত।
ইজারা নীতিমালা নিয়ে বিরোধ একপর্যায়ে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ব্যবসায়ীদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাজিন আহমেদ একটি আইনি নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের রুলস অব বিজনেস এবং সচিবালয় নির্দেশমালা অনুযায়ী জনমত আহ্বান বাধ্যতামূলক হলেও অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে মতামত চাওয়ায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জটিলতা নিরসন হওয়ায় ইজারা কার্যক্রম আবারও পুরোপুরি বেবিচকের নিয়ন্ত্রণে ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তাদের মতে, বিমানবন্দরের সম্পত্তি ইজারা বেবিচকের অন্যতম প্রধান রাজস্ব উৎস। এ কারণে বিষয়টি পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে জটিলতার অবসান ঘটানো হয়েছে এবং ইজারা কার্যক্রম পুনরায় সচল করা হয়েছে।