ঢাকা
০৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
ট্রাম্পের আলোচনা-সমঝোতার দাবি নাকচ করল ইরান সালিশে মারধরের পর বিষপানে যুবকের মৃত্যু, লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ ঘরে বসেই মিলবে পাসপোর্ট, অনলাইন ভিসা চালুর পরিকল্পনা সরকারের শাহ আমানত বিমানবন্দরে ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার স্বর্ণ জব্দ রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তারেক রহমান : চীনা রাষ্ট্রদূত ৫ আগস্ট ঘিরে দেশব্যাপী নিরাপত্তা জোরদার, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়েই রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হবে : মির্জা ফখরুল মন্ত্রিসভায় গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন খসড়া অনুমোদন, সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে কঠোর সতর্কতার নির্দেশ, গোপন তথ্য সুরক্ষায় জোর

মন্ত্রিসভায় গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন খসড়া অনুমোদন, সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬   ৩ বার পঠিত
মন্ত্রিসভায় গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন খসড়া অনুমোদন, সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান

ছবি: -সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন আইনে গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের ঘটনায় মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ উদ্ধার হলে বা পাঁচ বছর পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে না পাওয়া গেলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।

আইনটির লক্ষ্য মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা। এতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেবে।

খসড়ায় গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের লক্ষ্যে গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার—উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ১২০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভা একই বৈঠকে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন করেছে। সংশোধনের মাধ্যমে পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করলেও নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ-ব্যবহারের আইনি অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়াই তালিকাটি প্রণীত হওয়ায় এর বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়। ফলে নতুন করে তালিকা হালনাগাদ এবং এমন মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।

August 2026
SMTWTFS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031