https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দেশের মানুষের মধ্যে সন্দেহ, অসন্তুষ্টি, স্বার্থপরতা এবং অন্যকে খাটো করে দেখার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বরেণ্য অভিনেতা ও পরিচালক আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, এখন অনেকেই অসভ্য আচরণকে বাহাদুরি মনে করেন, আর অন্যের সমালোচনা ও নেতিবাচক খবর নিয়েই বেশি আগ্রহ দেখান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আফজাল হোসেন লেখেন, মানুষের মন ভরে গেছে সন্দেহ, অসন্তুষ্টি, স্বার্থপরতা এবং সংকীর্ণ মানসিকতায়। ভালো কোনো খবর বা অর্জন আমাদের গর্বিত করে না, বরং নেতিবাচক সংবাদ এবং পরনিন্দা নিয়েই আমরা বেশি আনন্দ পাই। এ ধরনের মানসিকতা নিয়ে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাজে বিচারকসুলভ মনোভাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার জন্য অনেকে প্রকাশ্যেই অসভ্য আচরণ করেন এবং সেটিকেই এখন সাহসিকতা বা বাহাদুরি হিসেবে দেখা হয়। তার ভাষায়, যেন অনেকেই জন্মগতভাবেই বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন এবং দেশের যেকোনো ঘটনা বা মানুষকে বিচার করতে সদা প্রস্তুত।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আফজাল হোসেন বলেন, কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লার একক সংগীতানুষ্ঠান উপস্থাপনার দায়িত্ব পাওয়ার পর অনেকেই তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, রুনা লায়লা সত্যিই গান গাইবেন, নাকি গান চালিয়ে শুধু ঠোঁট মেলাবেন। তিনি বলেন, একজন কিংবদন্তি শিল্পীকে নিয়েও এমন সন্দেহ প্রকাশ সমাজে অবিশ্বাসের সংস্কৃতি কতটা গভীর হয়েছে, সেটিই প্রমাণ করে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য নিয়েও মানুষের নেতিবাচক মনোভাবের সমালোচনা করেন এই গুণী নির্মাতা। তিনি উল্লেখ করেন, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ কান চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়ার পরও অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কত টাকা দিয়ে সিনেমাটি সেখানে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের মন্তব্য দেশের অর্জনকে খাটো করার মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশিদের হিমালয় জয় কিংবা ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমা নির্বাচিত হওয়ার মতো ইতিবাচক সংবাদও মানুষের কাছে গুরুত্ব পায় না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন আফজাল হোসেন। তার মতে, সমাজ এখন চটকদার ও নেতিবাচক খবরে বেশি আকৃষ্ট।
স্ট্যাটাসের শেষদিকে তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেই দেশ বদলে যায় না। দেশের মানুষ বদলালেই প্রকৃত অর্থে দেশের পরিবর্তন সম্ভব।