https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দিলেও চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বড় বড় ঘোষণা এলেও বাস্তবায়নের পথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। তিনি হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথাও বলেছেন। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঘোষণার পরপরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ট্যাংকার জট, সমুদ্রপথে পাতা মাইন অপসারণ এবং তেল উৎপাদন ও পরিবহন স্বাভাবিক করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
চুক্তির সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা পারমাণবিক ইস্যুতে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এ বিষয়টি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম কতটা সীমিত হবে কিংবা বর্তমানে মজুত থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।
ইরানের পক্ষ থেকেও সতর্ক অবস্থান দেখা যাচ্ছে। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এগোবে না। অর্থাৎ কাগজে-কলমে সমঝোতা হলেও বাস্তবায়নের আগে উভয় পক্ষের মধ্যে আরও দরকষাকষি ও যাচাই-বাছাই বাকি রয়েছে।
আরেকটি বড় প্রশ্ন ইসরায়েলকে ঘিরে। ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা প্রায় সম্পন্ন হওয়া চুক্তিকে বিপদের মুখে ফেলতে পারত। যদি ভবিষ্যতে ইসরায়েল নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। সেক্ষেত্রে পুরো সমঝোতা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই চুক্তির সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাপ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, তেলের বাজার স্বাভাবিক হলে জ্বালানির দাম কমবে এবং সাধারণ মানুষের ব্যয়ও কিছুটা কমবে। তবে সেটি কত দ্রুত ঘটবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার ঘোষণা এসেছে, কিন্তু চূড়ান্ত চুক্তি এখনো স্বাক্ষরিত হয়নি। পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং ইসরায়েলের ভূমিকার মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা পুরোপুরি দূর হচ্ছে না। আগামী কয়েক দিনই নির্ধারণ করবে এই সমঝোতা স্থায়ী শান্তির পথে এগোবে, নাকি নতুন কোনো সংকটে আটকে যাবে।